রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১,  ৪ আশ্বিন ১৪২৮,  Sunday, September 19, 2021


দ্যা বাংলা টাইম

আপডেট : 1 month ago

Mon, Aug 2, 2021 4:42 AM

 

ঠাণ্ডা ঘর: উত্তপ্ত করছে পৃথিবীকে?

Card image cap

গরম থেকে রক্ষা পেতে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) ব্যবহার বাড়ছে বিশ্বজুড়ে। গরমের হাতে থেকে একটু আরামের জন্য এসি'তে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে মানুষ। আর মানুষের এই আরামের জন্য মূল্য দিতে হচ্ছে ধরণিকে। ঘরকে ঠাণ্ডা রাখার এই যন্ত্র ধরণি অর্থাৎ পৃথিবীকে করে তুলছে উত্তপ্ত। 

বৈষ্ণিক উষ্ণায়ন নিয়ে বিশ্বজুড়ে যখন দুশ্চিন্তা–উৎকণ্ঠা, সেই সময়ে এসির রাসায়নিক উপাদান কীভাবে পৃথিবীকে উত্তপ্ত করে তুলছে, তার ওপর আলোকপাত করেছেন মার্কিন অধ্যাপক এরিক ডিন উইলসন। 

‘আফটার কুলিং: অন ফ্রেয়ন, গ্লোবাল ওয়ার্মিং, অ্যান্ড দ্য টেরিবল কস্ট অব কমফোর্ট’ শিরোনামের বইয়ে ঠান্ডা পাওয়ার জন্য শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের বহুল ব্যবহার এবং এটা জলবায়ু–সংকটে কী প্রভাব ফেলছে, সে আলোচনা করেছেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে এক বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান।

শীতলীকরণের জন্য ফ্রিজ, এসিতে যে আধুনিক রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস ব্যবহার করা হয়, সেটি প্রথম আসে ১৯৩০–এর দশকে। ক্লোরোফ্লোরো কার্বন (সিএফসি) নামের এই রাসায়নিক ফ্রেয়ন নামে বেশি পরিচিত হয়ে ওঠে। এই রাসায়নিক বাতাসে ছড়িয়ে ওজোন স্তরের ক্ষতি করে। ১৯৮৭ সালের একটি আন্তর্জাতিক চুক্তিতে সিএফসি গ্যাস উৎপাদন নিষিদ্ধ করা হয়। তবে এরপরও প্রতিবছর অক্টোবরে অ্যান্টার্কটিকার ওপরে ওজোন স্তরে ক্ষত দেখা যায়।

বর্তমানে নিষিদ্ধ সিএফসির বদলে হাইড্রোফ্লোরো কার্বন (এইচএফসি) ব্যবহার করা হচ্ছে। এই গ্যাস ওজোন স্তরের ক্ষতি না করলেও বৈশ্বিক উষ্ণায়নে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। কার্বন ডাই–অক্সাইডের তুলনায় ১৪ গুণ বেশি ভূমিকা রাখছে তা। এখন শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের পাশাপাশি গাড়িতে এইচসিএফসির বহুল ব্যবহার করা হচ্ছে। যদিও নির্মাতারা বলছে, এই পণ্য বায়ুমণ্ডলে সরাসরি ফ্রেয়ন ত্যাগ করে না। কারণ, এটা থেকে গ্যাস নিঃসরিত হয় না। এই অধ্যাপকের মতে, বাস্তবে তা ঘটে না। তিনি দেখিয়েছেন আসলে কী ঘটে? বিশেষত গাড়ির এসির ক্ষেত্রে, যখন একটি রেফ্রিজারেন্ট কোনো একটি সিস্টেমের মধ্যে চার্জ হয়, একটি এয়ারকন্ডিশনারের মধ্যে, তখন এটা থেকে খুব ধীরে ধীরে গ্যাসের নিঃসরণ ঘটে।

উইলসনের বইয়ে অবশ্য সরাসরি এসির ব্যবহার বন্ধ করতে বলা হয়নি। তিনি স্বীকার করেছেন, দাবদাহের মধ্যে মানুষের শারীরিক এবং মানসিক যে চাপ থাকে তাঁর জন্য রেফ্রিজারেন্ট জীবন রক্ষাকারী হিসেবে কাজ করে। উইলসন বলেছেন, দীর্ঘ সময় উষ্ণ তাপমাত্রা মানুষের মানসিক ও শারীরিক দক্ষতা কমিয়ে দেয়। অফিস এবং শ্রেণিকক্ষে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণেও এয়ারকন্ডিশনার একটি কার্যকর যন্ত্র।

উৎপাদন প্রতিষ্ঠানগুলো এসিকে নিরাপদ বললেও এই ব্যবহার এবং ব্যবহার পরবর্তী ফেলে দেওয়া দুটোই পরিবেশে মারাত্মক ভাবে প্রভাব ফেলছে। তবে বর্তমান সময়ে এসির ব্যবহারিতা যে অনেক প্রয়োজনীয় তাও স্বীকার করেন তিনি। উইলসনের মতে, ব্যাপকভাবে বাণিজ্যিক এসির ব্যবহার শুরু হওয়ার আগে আমাদের পৃথিবী আরও শীতল ছিল। নিজেদের আরামের জন্য আমরা নিজ গ্রহকে উষ্ণ করে ফেলেছি।

এসির বিকল্প হিসেবে বেশি করে গাছ লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন অধ্যাপক এরিক ডিন উইলসন। আরেকটি সমাধান হচ্ছে, মৌচাক, উঁইয়ের ঢিবির মতো প্রাকৃতিক উপাদান, যেগুলো তাপমাত্রা ঠিক রাখতে সহায়ক, সেগুলোকে ব্যবহার করা। তাঁর এ বিষয়টি মাথায় রেখে নিউইয়র্কের পুলিশ ইতিমধ্যে বিপুল পরিমাণ গাছ লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক ব্যবস্থার সাথে গাছটাকে তিনি টেনেছেন বারবার। সরাসরি সূর্যের আলো পড়বে না, এমন ব্যবস্থা রেখেই কক্ষে আলো–বাতাস যাওয়ার বন্দোবস্ত করতে হবে বলে মনে করছেন রিক ডিন উইলসন। 

ছবি, সংগৃহীত।