রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১,  ৪ আশ্বিন ১৪২৮,  Sunday, September 19, 2021


দ্যা বাংলা টাইম

আপডেট : 1 month ago

Mon, Aug 2, 2021 3:47 AM

 

ফজলের হাসি চিরতরে স্তব্ধ করল তালেবানরা

Card image cap

আফগান পুলিশের এক কর্মকর্তাকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে তালেবান। গত বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) তালেবান এ কথা স্বীকার করে। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

নিহত পুলিশ কর্মকর্তার নাম ফজল মোহাম্মদ। তিনি ‘খাসা জওয়ান’ নামে বেশি পরিচিত। তাঁর পুলিশ পরিচয়ের চেয়েও আরও একটা বড় পরিচয় ছিল, তিনি সবাইকে হাসাতে পারতেন। অনলাইনে হাস্যরসাত্মক নানান ভিডিও পোস্ট করার জন্য আফগানদের কাছে তিনি ‘কৌতুক অভিনেতা’ হিসেবেই বেশি পরিচিতি অর্জন করেন।

ফজল কান্দাহার প্রদেশে কর্মরত ছিলেন। ফজলের এক সহকর্মী এক তথ্যে জানান, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে বাড়িতে ফেরার পর তাঁকে তালেবান তুলে নিয়ে যায়। এরপর আর ফেরেনি তিনি। ধারনা করা হয় তারপরই ফজলকে মেরে ফেলে তালেবানরা। 

তবে ফজলকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে হত্যার কথা শুরুতে অস্বীকার করে তালেবান। এরপরই গত সপ্তাহে এ-সংক্রান্ত একাধিক ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে অবশেষে ফজলকে হত্যার কথা স্বীকার করে তালেবান। তবে ওই অত্যাচারের ভিডিওতেও তাঁকে অনেক তার নিজের লুকেই দেখা গেছে। মৃত্যুর কোন ভয় তাঁর চেহারাতে ছিল না, বরং তিনি যেন তালেবানদের মার খেয়েও হাসিমুখে ছিলেন। 

ফজলকে তালেবান বিরুধি আখ্যা দিয়ে তালেবান বলছে, সে (ফজল) আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছিল এবং অন্যদেরও উদ্ভদ্ধ করতো। ফজল কোন ‘কৌতুক অভিনেতা’ নয় এমন কথা জানিয়ে তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, ‘তিনি (ফজল) কোন কৌতুক অভিনেতা ছিলেন না, তিনি আমাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। তাঁকে আটক করার পর তিনি পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। তখন আমাদের বন্দুকধারীরা তাঁকে গুলি করে।’

একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ফজলের দুই হাত পিছমোড়া করে বাঁধা অবস্থায় তিনি একটি গাড়িতে বসে আছেন। তাঁর দুই পাশে তালেবানরা বসা। যারা তাঁকে বারবার চড় মারছিল। এরপর অপর একটি ভিডিওতে ফজলের মরদেহ দেখা যায়। তালেবানদের অভিযোগের জবাবে, ফজলের সহকর্মী পুলিশ কমান্ডার সাইলাববলেন, ফজল কখনো তালেবানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন ছিলেন না। তিনি বলেন, এই খুবই হাসিখুশি আর মজাদার লোক ছিলেন, আর তাই যুদ্ধের চেয়ে তিনি বরং বিভিন্ন তল্লাশিচৌকিতে পুলিশ সদস্যদের আনন্দ দিতেন।

ফজলকে হত্যার ভিডিও প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এ নিয়ে অনেক ফেসবুক ব্যবহারকারীকে ক্ষোভ আর আর ঘৃণা প্রকাশ করতে দেখা গেছে। তালেবানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের সবাইকে জেগে উঠার আহ্বান জানিয়েছেন অনেকেই। ফজল কাজের ফাঁকে মানুষকে বিনোদন দিতেন, একজন পুলিশ হয়েও মানুষকে হাসাতে পারতেন, একজন হাসি ছড়ানো মানুষকে মানুষ কিভাবে মারতে পারে এমন প্রশ্ন করেছেন অনেকই। একজন লিখেছেন, ‘খাশার নিষ্পাপ চেহারা সব মানুষের হৃদয়কে আহত করেছে। তালেবানরা তাঁকে গুলি করে হত্যা করেছে। এর থেকে আর কোন বড় নিষ্ঠুরতা পৃথিবীতে আছে কি? তালেবানদের কখনো মানুষ বলা যায় না। পৃথিবীর সবচেয়ে নিষ্ঠুর  আর নিকৃষ্টতম প্রাণী ওরা।’

তালেবান যখন আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ছিল, তখন তারা দেশটিতে সব ধরনের বিনোদন নিষিদ্ধ ছিল। চলতি বছরের ৩১ আগস্টের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে সব মার্কিন যুদ্ধসেনা প্রত্যাহারের কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকে তালেবান আফগানিস্তানে তাদের হামলা বাড়িয়ে দিয়েছে। তাদের হামলা ও অগ্রযাত্রার মুখে দেশটির সরকারি বাহিনীর অনেক সদস্যের পালিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। নারী, পুলিশ, সাংবাদিক, বিনোদন কর্মী এমন সব মানুষকে বেশি টার্গেট করা হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকা দখলের পর সেসব এলাকার আত্মসমর্পণ করা সরকারি বাহিনীর অনেক সদস্যকে হত্যা করেছে। এখন তালেবান দেশটির বিভিন্ন এলাকা দখল করছে। আফগানিস্তানের অর্ধেকের বেশি এলাকা তালেবানের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে বলে খবর বেরিয়েছে।

ফাইল ছবি, ডেয়ার স্পিগেল।