সোমবার, ২৩ মে, ২০২২,  ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯,  Monday, May 23, 2022


দ্যা বাংলা টাইম

আপডেট : 3 months ago

Mon, Jan 31, 2022 7:14 AM

 

পূর্ব ইউরোপে ব্রিটেন দ্বিগুণ করবে সামরিক উপস্থিতি

Card image cap

রাশিয়ার সাথে ইউক্রেনের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই পূর্ব ইউরোপে সামরিক উপস্থিতি দ্বিগুণ করতে যাচ্ছে ব্রিটেন। 

গত শনিবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেন, সম্ভাব্য সেনা মোতায়েনের বিষয়টি ‘ক্রেমলিনকে পরিষ্কার বার্তা দেবে’।  গতকাল এ সংক্রান্ত খবর প্রকাশ করেছে বিবিসি।  ইউক্রেন ইস্যুতে পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে রাশিয়ার সমস্যা দিন দিন আরো জটিল রূপ নিচ্ছে, যা অনেকটা সামরিক সঙ্ঘাতের দিকেই এগোচ্ছে।

পরিস্থিতি গুরুতর আঁচ করতে পেরে চলতি সপ্তাহে ইউরোপের পূর্বাঞ্চলে সফরে যাচ্ছেন বরিস।  কারণ মস্কো-কিয়েভের আসন্ন সঙ্ঘাতের বিষয়টি ইউরোপ ও ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর নিরাপত্তার সাথে সম্পর্কিত। 

প্রধানমন্ত্রী বরিস হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘রাশিয়ার অস্থিতিশীল কার্যকলাপ কখনো সহ্য করবে না ব্রিটেন।  আমরা সব সময় ন্যাটোর মিত্রদের পাশে আছি।  পুতিন যদি রক্তপাত ও ধ্বংসাত্মক পথ বেছে নেন, তা হবে ইউরোপের জন্য ট্র্যাজেডি।  ইউক্রেনকে নিজের ভবিষ্যৎ বেছে নেয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই স্বাধীন হতে হবে।’

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আগামী সপ্তাহে আমাদের সশস্ত্রবাহিনীগুলোকে ইউরোপজুড়ে মোতায়েন হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছি।  জলে, স্থলে ও আকাশে ন্যাটো মিত্রদের সহায়তা করতে আমাদের সক্ষমতা নিশ্চিত করা হবে।’ এ দিকে, চলমান সঙ্কটে আগামী সপ্তাহে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে ফোনে আলাপ করতে যাচ্ছেন বরিস জনসন।  মূলত সঙ্কট নিরসনের জন্য পুতিনের সাথে কথা বলবেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।  ইতোমধ্যে ব্রিটেনের ৯ শতাধিক সামরিক সদস্য এস্তোনিয়ার ঘাঁটিতে অবস্থান করছে।  এ ছাড়া আরো একশর বেশি ট্রেনিংয়ে রয়েছে ইউক্রেনে।  আর পোল্যান্ডে আছে দেড় শতাধিক।  যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে তাদের আট হাজার সেনা প্রস্তুত রয়েছে।  নির্দেশ পাওয়া মাত্রই যুক্ত হয়ে যাবে।

কমব্যাট সৈন্য মোতায়েন করবে না ন্যাটো : রাশিয়া আক্রমণ চালালেও ন্যাটোর সদস্য না হওয়ায় ইউক্রেনে কমব্যাট সৈন্য মোতায়েনের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে পশ্চিমা এই সামরিক জোট।  ইউক্রেন সঙ্কট ঘিরে ইউরোপে সৃষ্ট উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল ন্যাটোর মহাসচিব জেন্স স্টলটেনবার্গ এই মন্তব্য করেছেন।  রাশিয়া হামলা চালালে ন্যাটোর সৈন্যদের ইউক্রেনে মোতায়েন করা হবে কি-না, বিবিসি টেলিভিশনের এমন এক প্রশ্নের জবাবে স্টলটেনবার্গ বলেন, ‘ইউক্রেনে আমাদের ন্যাটোর কমব্যাট সৈন্য মোতায়েনের কোনো পরিকল্পনা নেই। আমরা সহায়তা প্রদানের দিকে মনোনিবেশ করছি।’ তিনি বলেন, ‘ন্যাটোর সদস্য হওয়া এবং ইউক্রেনের শক্তিশালী ও অত্যন্ত মূল্যবান অংশীদার হওয়ার মধ্যে পার্থক্য আছে।  এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই।’ ইউক্রেন ঘিরে তৈরি হওয়া ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার ব্যাপারে ‘ভারসাম্যপূর্ণ পদ্ধতি’ অবলম্বনে সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ন্যাটোর এই মহাসচিব।  স্টলটেনবার্গ বলেছেন, ‘ইউক্রেনে কমব্যাট সৈন্য মোতায়েনের পরিকল্পনা নেই।’ তিনি বলেন, ‘চলমান পরিস্থিতি প্রকৃত বিপদ তৈরি করেছে এবং সংশ্লিষ্ট সব দেশের উচিত রাজনৈতিক সমাধানের জন্য কাজ করা।’

রাশিয়ার প্রতি ইউক্রেনের আহ্বান : ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনেস্কি বলেছেন, ইউক্রেনে ‘আক্রমণের উদ্দেশ্যের অনুপস্থিতি’ এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় ‘দৃঢ় পদক্ষেপ’ নেয়ার প্রস্তুতি সম্পর্কে রাশিয়াকে আবশ্যিকভাবে নিশ্চয়তা দিতে হবে।  শুক্রবার ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই কথা বলেন বলে খবর প্রকাশ করেছে তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি।  দুই দেশের মধ্যে সমস্যা সমাধানে আলোচনার ওপর জোর দেন জেলেনেস্কি।  তিনি বলেন, যদি ইউক্রেনের সাথে রাশিয়ার কোনো সমস্যা থাকে, তবে তার জন্য প্রয়োজন আলোচনা করা।  এর জন্য ইউক্রেন সীমান্তে সৈন্য সমাবেশ ও সাধারণ নাগরিকদের আতঙ্কিত করা উচিত নয়।  তিনি বলেন, ‘আমি বৈঠকের জন্য আগ্রহী এবং কোনো রকম বৈঠকে আমি ভীত নই।  দ্বিপক্ষীয় বৈঠকসহ যেকোনো রকম বৈঠকের জন্য আমি প্রস্তুত রয়েছি।’

জেলেনেস্কি বলেন, ইউক্রেনের নেতা হিসেবে তার দায়িত্ব দেশে ‘শান্তি ফিরিয়ে আনতে’ সব দরজায় করাঘাত করা, সব বিশ্বনেতার কাছে আবেদন করা এবং ভিন্ন ভিন্ন বৈঠক ও প্লাটফর্মে প্রস্তাব দেয়া।  তিনি বলেন, তিনি বিশেষভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে পরিস্থিতি শান্ত করতে আলোচনা প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের জন্য আকাক্সক্ষা করেন।  ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি চাই প্রেসিডেন্ট বাইডেন এতে অংশ নিন যাতে আমরা যুক্তরাষ্ট্র-ইউক্রেন-রাশিয়ার সমন্বয়ে আলোচনার একটি প্লাটফর্ম পেতে পারি।’

জেলেনেস্কি ইউক্রেনের অর্থনৈতিক অংশীদার দেশগুলোকে অর্থনীতি সচল রাখতে ‘অব্যাহত বিনিয়োগের’ আহ্বান জানান।  তিনি বলেন, অর্থনৈতিক অংশীদারদের যেকোনো প্রকার সহায়তা ইউক্রেনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।  বর্তমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগ থেকে দ্রুত মুনাফা অর্জনে লক্ষ্য না করে ইউক্রেনকে ‘বিশ্বস্ত’ অংশীদার বানানোর দিকে লক্ষ্য নির্ধারণ করা উচিত বলে জানান জেলেনেস্কি।

সংবাদ সম্মেলনে রাশিয়ার সাথে সম্ভাব্য যুদ্ধে জনগণকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।  তিনি বলেন, ‘ব্রিটেন, জার্মানি, ফ্রান্স ও লিথুনিয়ায় সংবাদমাধ্যমগুলো ধারণা দিচ্ছে ইউক্রেনে যুদ্ধ চলছে।  তবে অবস্থা এমন নয়। আমাদের উচিত নয় আতঙ্কিত হওয়া।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাশিয়ার সাথে যুদ্ধ যদি লেগেও যায়, কোনো দেশই ইউক্রেনকে রক্ষায় তাদের সেনাবাহিনীকে পাঠাবে না।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘যদি যুদ্ধ লাগে তবে কোনো দেশের সেনাবাহিনী আমাদের রক্ষার জন্য তৈরি রয়েছে? এটি কখনোই হবে না।  এটি ন্যাটোর জন্য ভয়াবহ। ইউক্রেনকে ন্যাটো রক্ষা করবে যদি জোটে ইউক্রেন যোগ দেয়।  ন্যাটোর জন্য এটি গুরুতর চ্যালেঞ্জ।  কিছু ইউরোপীয় দেশ ন্যাটোর মধ্যে ইউক্রেনকে যুক্ত করার মাধ্যমে ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত নয়।  তবে পূর্ণমাত্রায় যুদ্ধ যদি ছড়িয়ে পড়ে, ন্যাটোর কিছু দেশের সীমান্তেও তা ছড়িয়ে পড়বে।’

সংবাদ সম্মেলনে তিনি ২০১৪ সালের মতো রাশিয়ার আগ্রাসনের জেরে সংঘর্ষপূর্ণ পরিস্থিতির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেন।  এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘প্রথমত, বর্তমানে আমাদের যে সামরিক বাহিনী রয়েছে, তা তখন ছিল না।  দ্বিতীয়ত, জনগণের প্রতিক্রিয়াও এখন ভিন্ন।  প্রত্যেকই প্রবলভাবে দেশাত্মবোধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ।  প্রত্যেকেই দেখেছে অস্থায়ীভাবে দখলে থাকা ভূখণ্ডে কী হয়েছে এবং আমরা কেউই এখন তা চাই না।’

নিষেধাজ্ঞার অর্থ হবে সম্পর্ক ছিন্ন করা : রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন, তার দেশের কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং রাশিয়াকে আন্তর্জাতিক লেনদেন ব্যবস্থা সুইফট ব্যবহার করতে না দেয়ার অর্থ হবে মস্কোর সাথে পাশ্চাত্যের সম্পর্ক ছিন্ন করা।  ইউক্রেনকে কেন্দ্র করে যখন মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো জোটের সাথে রাশিয়ার সম্পর্কে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে তখন ল্যাভরভ এ বক্তব্য দিলেন।

তিনি শনিবার মস্কোয় এক বক্তব্যে পাশ্চাত্যের সাথে উত্তেজনা প্রসঙ্গে বলেন, যেকোনো পরিস্থিতির জন্য মস্কো নিজেকে প্রস্তুত রেখেছে।  ল্যাভরভ বলেন, রুশ কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি রাশিয়ার জন্য সুইফট বন্ধ করে দেয়ার অর্থ হবে সম্পর্ক ছিন্ন করা যা কারো স্বার্থ রক্ষা করবে না। 

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছিলেন, রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালালে ব্যক্তি ভ্লাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।  এর জবাবে একদিন আগে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, পাশ্চাত্য নিষেধাজ্ঞায় আসক্ত হয়ে পড়েছে।