সোমবার, ২৩ মে, ২০২২,  ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯,  Monday, May 23, 2022


দ্যা বাংলা টাইম

আপডেট : 3 months ago

Tue, Jan 25, 2022 8:23 AM

 

বিদেশে কর্তাদের প্রশিক্ষণে ব্যয় জনপ্রতি সাড়ে ১৬ লাখ টাকা

Card image cap

প্রকল্পে চলছে কর্মকর্তাদের বিদেশে প্রশিক্ষণের আবরণে ভ্রমণ।  জলবায়ু সংশ্লিষ্ট কৃষি ও পানি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ নিতে ১০ কর্মকর্তা বিদেশে যাবেন।  প্রতিজনের পেছনে প্রকল্প থেকে খরচ হবে সাড়ে ১৬ লাখ টাকা। কর্তারা এক মাস বিদেশে থাকবেন।  বীজ ও ফসল উৎপাদন বৃদ্ধির এই প্রকল্পে আর্থিক বিশেষজ্ঞদের পেছনে মাসে খরচ প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা।  পরিকল্পনা কমিশন বলছে, বিষয়টি আগেই পিইসি হয়েছে।  তবে এটা সংশোধিত প্রকল্প।  বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নের কারণে এখানে ফিন্যান্স বিশেষজ্ঞ রাখতে হচ্ছে।  আজ মঙ্গলবার অনুমোদনের জন্য একনেকে প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হচ্ছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবনা থেকে জানা গেছে, ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে প্রকল্প এলাকায় ২ শতাংশ শস্য নিবিড়তা অর্থাৎ ১৭৬ থেকে ১৭৮ শতাংশ বৃদ্ধি করার লক্ষ্য নিয়েছে তারা।  তাই প্রকল্প এলাকার উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা এবং কমপক্ষে ১২টি জলবায়ু স্মার্ট প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে প্রকল্প এলাকায় সেচের পানি ব্যবহার দক্ষতা ৫০ শতাংশ সাশ্রয়ী করা হবে।  প্রকল্প এলাকায় প্রতি বছর ১২০ টন দানাদার বীজ, ৪০ টন ডাল জাতীয় ফসলের বীজ এবং ৪০ টন তেল জাতীয় ফসলের বীজ উৎপাদন বৃদ্ধি করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।  আর এই জন্যই ‘ক্লাইমেট স্মার্ট অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট প্রজেক্টের (সিএসএডব্লিউএমপি) আওতায় এমন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ১০৬ কোটি ৮ লাখ টাকা।  এর মধ্যে বিশ্বব্যাংক ঋণসহায়তা দেবে ৮৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা।  বাকি ২১ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয় সরকারি কোষাগার থেকে মেটানো হবে।  আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (আইডিএ) বোর্ড থেকে অনুমোদন এবং সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) কর্তৃক ঋণ গ্রহণের সম্মতিপত্র রয়েছে।

যদিও ইতোমধ্যে ছয় মাস অতিক্রম করেছে।  তারপরও প্রকল্পের মেয়াদ ২০২১ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত প্রস্তাব করা হয়েছে।  অর্থাৎ পাঁচ বছর লাগবে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে।  আর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর (ডিএই) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।  ১০ অঞ্চলের ১৭ জেলার ২৭ উপজেলায় এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।  জেলাগুলো হলো নরসিংদী, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, লক্ষ্মীপুর, কক্সবাজার, সিলেট, রাজশাহী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, যশোর, নড়াইল, বরিশাল, পটুয়াখালী, গোপালগঞ্জ ও রাজবাড়ী জেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।  কৃষি বহুমুখীকরণ, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, সেচের পানি ব্যবহারে দক্ষতা বৃদ্ধি, দারিদ্র্য নিরসন এবং প্রান্তিক কৃষকদের অর্থনৈতিক ও জীবনমান উন্নয়নে এই প্রকল্পটি অবদান রাখবে বলে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে।

আর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য থেকে জানা যায়, কমপ্রিহেনসিভ ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রামের (সিডিএমপি) প্রথম পর্ব (২০০৪-২০০৯) চলাকালীন কৃষিতে ‘বিপর্যয় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা’ কার্যক্রমে এ সেক্টরের দুর্বলতা ও ঝুঁকি চিহ্নিত করা হয়।  জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়া হিসেবে এ সময় উপজেলায় কৃষি ক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে জীবিকা অভিযোজন (এলএলসিসি) চালু করা হয়।  এলএলসিসিতে শস্য, শাকসবজি, উদ্যানতত্ত্ব, সেচ, মিঠা পানির উৎস, জৈব শক্তি, প্রাণিসম্পদ ও বনজ খাতের বিকল্পগুলো চিহ্নিত করা হয়।  তবে চিহ্নিত বিকল্পগুলো বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না।  গ্রামীণ মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতির লক্ষ্যে চিহ্নিত অঞ্চলগুলোতে সমন্বিত কৃষি উন্নয়নের জন্য বিশ্বব্যাংক ১২ কোটি ডলারের সমপরিমাণ অর্থ দিতে সম্মত হয়।

জানা গেছে, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর এবং মৎস্য অধিদফতরের আওতায় পৃথক পৃথক প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে।  এর মধ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ক্লাইমেট স্মার্ট অ্যাগ্রিকালচার প্রোডাকশন উন্নয়ন নিয়ে কাজ করবে।  দেশের ২৭টি উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।  এ অঞ্চলগুলোতে জলবায়ু সহিষ্ণু কৃষির তেমন কোনো প্রকল্প গ্রহণ করা হয়নি।  ফলে কৃষি ক্ষেত্রে উন্নয়ন কাক্সিক্ষত পর্যায়ে হয়নি এবং এ অঞ্চলের মানুষ ধীরে ধীরে আর্থিকভাবে পিছিয়ে যেতে শুরু করে।  তাই এসব অঞ্চলে গ্রামীণ মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতির জন্য বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে প্রকল্পটি নেয়া হচ্ছে।

ব্যয়ের হিসাব থেকে দেখা যায়, প্রকল্পের আওতায় দুই ব্যাচে কর্মকর্তারা বিদেশে প্রশিক্ষণ নেবেন।  এতে ব্যয় হবে এক কোটি ৬৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা।  প্রতি ব্যাচে পাঁচজন করে দু’ব্যাচে ১০ জন বিদেশে যাবেন।  সেখানে তারা এক মাস ট্রেনিং নেবেন।  ফলে প্রতিজনের পেছনে ব্যয় হবে ১৫ লাখ ৫৪ হাজার টাকা, যা এ যাবৎ বিদেশে প্রশিক্ষণে মাথাপিছু খরচের চেয়ে অনেক বেশি বলে পরিকল্পনা কমিশন মনে করছে।

অন্য দিকে প্রকল্পে একজন সিনিয়র ফিন্যান্স বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেয়া হবে ৫৮ মাসের জন্য।  যার জন্য ব্যয় হবে এক কোটি ৮৫ লাখ টাকা।  ফলে প্রতি মাসে তার সম্মানী হবে তিন লাখ ১৯ হাজার টাকার বেশি।

প্রকল্পের আওতায় কার্যক্রমগুলো হলো, স্থানীয় প্রশিক্ষণে ৩৭১ ব্যাচে কৃষক, ২১৩ জন বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, ২৩ হাজার ১২৭টি প্রদর্শনী স্থাপন করা হবে।  তিন হাজার ১৯২টি বিভিন্ন ধরনের কৃষি যন্ত্রপাতি সংগ্রহ ও বিতরণ করা হবে।  এর মধ্যে রয়েছে কম্বাইন্ড হারভেস্টার, মেইজ সেলার মেশিন, বীজের আর্দ্রতামাপক যন্ত্র, সিড গ্রেডিং চালু, রাইস ট্রান্সপ্লান্টার, ডিজিটাল ওয়েট মেশিন, ফিতা পাইপ ও বীজ সংরক্ষণ পাত্র।  এ ছাড়া ২৬৪টি নির্মাণ স্থাপনা।  এর মধ্যে অন্যতম পলিনেট হাউজ, ড্রিপ ইরিগেশন পদ্ধতি, বারিড পাইপ ইরিগেশন পদ্ধতি, সোলার সিস্টেমে সেচ, কৃষিপণ্য সংগ্রহ সেন্টার ইত্যাদি। উদ্বুদ্ধকরণ ভ্রমণে আট ব্যাচে কর্মকর্তা, এসএএও এবং এসএপিপিও আট ব্যাচ ও কৃষক ১০ ব্যাচ।  সাতটি জাতীয় ও ১০টি আঞ্চলিক সেমিনার করা হবে।

বিরাট অঙ্কের মাথাপিছু খরচে বিদেশে প্রশিক্ষণের যৌক্তিকতা জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত দায়িত্বে সদস্য (সচিব) মো: মামুন-আল-রশীদ গতকাল সোমবার বলেন, এটি মূলত আগের সদস্য যিনি ছিলেন তার সময়ে মূল্যায়ন কমিটির সভা হয়েছে।  আর এখন তো একনেকে চলে গেছে কোনো পরিবর্তন হওয়ার সুযোগ নেই।  তবে প্রকল্পটি আমি দেখেছি। তিনি বলেন, প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট প্রকল্প।  তাই বিদেশে গিয়ে অন্যদের টেকনোলজি দেখার প্রয়োজন আছে।

বিশেষজ্ঞ প্রসঙ্গে বলেন, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নের কারণে তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী বাজেট, প্রশিক্ষণ কারিকুলাম হয়। দাতাসংস্থার ফরমেট অনুযায়ী এটা বরাবরই থাকে।