মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারী, ২০২২,  ১২ মাঘ ১৪২৮,  Tuesday, January 25, 2022


দ্যা বাংলা টাইম

আপডেট : 1 month ago

Tue, Nov 30, 2021 10:19 AM

 

শতবর্ষের আলোয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

Card image cap

শতবর্ষের জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান সামনে রেখে অপরূপ সাজে সাজানো হয়েছে দেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে (ঢাবি)।

চলতি বছরের ১ জুলাই প্রতিষ্ঠার শতবর্ষ পূরণ করে ১০১তম বছরে পদার্পণ করলেও ১ জুলাই করোনা মহামারীর কারণে শতবর্ষের অনুষ্ঠান ১ ডিসেম্বর থেকে উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।  আর এই উদযাপনকে ঘিরেই বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে পুরো ক্যাম্পাসকে।  এখন চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।  আগামী ১-৪ ডিসেম্বর বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উদযাপন করা হবে শতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী।  ১২ ডিসেম্বর কনসার্টের মাধ্যমে পর্দা নামবে বর্ণিল উদযাপন অনুষ্ঠানের।  পুরো সময়জুড়ে ক্যাম্পাসকে আলোকিত ও সাজসজ্জা সমৃদ্ধ রাখার জন্য কাজ করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল, কাজী মোতাহার হোসেন ভবন, কলাভবন, ভিসি চত্বর, স্মৃতি চিরন্তন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাব ভবন, টিএসসি চত্বর, ফুলার রোড, সামাজিক বিজ্ঞান ভবনসহ পুরো ক্যাম্পাস এবং আশপাশের বিভিন্ন সড়ক এবং শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল, শিক্ষকদের আবাসিক ভবনগুলো লাল, সবুজ, নীল রঙের বাতিতে সাজানো হয়েছে।  বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা, টিএসসির বটতলা, মধুর ক্যান্টিনের আম গাছ, ভিসি চত্বরের কড়ই গাছসহ বিভিন্ন স্পটের কয়েকশ’ গাছে ‘শতবর্ষের আলোয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে লাগানো হয়েছে লাইটবক্স ও বিভিন্ন ধরনের পোস্টার ও প্ল্যাকার্ড।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে শতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানের মূল মঞ্চ তৈরির কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলেছে।  তবে রেজিস্ট্রেশন করতে না পারা শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনায় হাজী মুহাম্মদ মুহসিন হলের মাঠ, অপরাজেয় বাংলা ও টিএসসির পায়রা চত্বরে নির্মাণ করা হচ্ছে প্যান্ডেল; যেখানে বসে শিক্ষার্থীরা বড় স্ক্রিনে শতবর্ষের অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারবেন।  এই তিনটি ভেনুতে ইতোমধ্যে প্যান্ডেল, লাইটিং, বৈদ্যুতিক পাখা স্থাপনসহ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।  অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের অফিসে চলছে অ্যালামনাইদের শেষ মুহূর্তের রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম।  রীতিমতো উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে ঢাবি ক্যাম্পাসে।  বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছাড়াও ক্যাম্পাসে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী কিংবা ক্যাম্পাসের রাস্তায় যাতায়াতকারী সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছে বর্ণিল এ আলোকসজ্জা।  শিক্ষার্থীসহ অনেকেই সুন্দর মুহূর্তগুলোর সাক্ষী হওয়ার জন্য ছবি তুলে ছড়িয়ে দিচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

শতবর্ষের অনুষ্ঠানে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে ভূগোল ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী কাজী জহিরুল ইসলাম বলেন, ঢাবি ও ঢাবির শতবর্ষ একটা আবেগের নাম।  শতবর্ষের আলোয় আলোকিত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় আবারো আগের ঐতিহ্য ফিরে পাবে  এটাই আমাদের প্রত্যাশা।  শতবর্ষের অনুষ্ঠানের জন্য দীর্ঘ দিন ধরে অপেক্ষায় থাকার পর সেটি অবশেষে হতে যাচ্ছে।  ইতিহাসের অংশ হতে পেরে অনেক ভালো লাগছে।
ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী রায়হানুল ইসলাম বলেন, আমাদের দীর্ঘ দিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে অনুষ্ঠানটি হচ্ছে।  আমরা এটি নিয়ে অনেক উচ্ছ্বসিত। শুধু বসে বসে দিন গুনছি কাক্সিক্ষত অনুষ্ঠানের।  কারণ এটিই আমাদের ঢাবিতে ভর্তি হওয়ার জন্য অন্যতম প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে আগামী ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর এবং ১২ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে আলোচনা ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।  ১ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো: আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থেকে ভার্চুয়ালি উপস্থিত থাকবেন রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ।  ভুটানের প্রধানমন্ত্রী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই লোটে শেরিং ভার্চুয়ালি শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখবেন।  অনুষ্ঠানে অতিথির বক্তব্য দেবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।  এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখবেন শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ এবং ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে আজাদ।
শতবর্ষ উদযাপন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব ও উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল এ প্রসঙ্গে বলেন, রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ ভার্চুয়ালি ১ ডিসেম্বরের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।  রাষ্ট্রপতির সশরীরে উপস্থিত থাকার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে সেটি হচ্ছে না।

সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ কে এম গোলাম রাব্বানী বলেন, আমাদের সব প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন।  আলোকসজ্জা, প্ল্যাকার্ড টাঙানো, প্যান্ডেলের কাজও প্রায় শেষ, অনুষ্ঠান সূচি তৈরি করা শেষ। আর যেটুকু বাকি আছে আশা করছি দ্রুত সম্পন্ন হয়ে যাবে।