মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২১,  ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮,  Tuesday, November 30, 2021


দ্যা বাংলা টাইম

আপডেট : 5 days ago

Thu, Nov 25, 2021 8:50 AM

 

বিশৃঙ্খলাকারীদের আগাম গ্রেফতারে সিইসির নির্দেশ

Card image cap

নির্বাচনী এলাকায় যেসব মাস্তান নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে তাদের আগাম গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা।  তিনি বলেন, পাড়া-মহল্লায় পাহারা দিয়ে সহিংসতা বন্ধ করা সম্ভব নয়।  আগাম গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দেয়া হয়েছে আজকের সভায়।  নির্বাচনের পরিবেশ ভালো রাখতে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে।  তিনি বলেন, নির্বাচন ঘিরে গোলোযোগ ও সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও আগামী ধাপের নির্বাচনগুলোতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নির্বাচন কমিশন (ইসি) শক্ত অবস্থান থাকবে।

আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে গতকাল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে বিশেষ সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।  সভায় চার নির্বাচন কমিশনার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব, ইসি সচিব, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব, ভারপ্রাপ্ত মহাপুলিশ পরিদর্শক, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), আনসার ও ভিডিপি, ডিজিএফআই, এনএসআইয়ের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

কে এম নুরুল হুদা বলেন, অনেকে গ্রেফতার হয়েছে।  অনেককে গ্রেফতারের তৎপরতা চলছে।  আমরা আগামী নির্বাচনগুলোতে সহিংসতা রোধে আপ্রাণ চেষ্টা করছি।  তিনি বলেন, সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীরা আচরণবিধি অনুসরণ করেন।  দু-চারজন মানছেন না বলে অভিযোগ এসেছে।  তাদের চিঠি দেয়া হয়েছে এলাকা ছাড়ার জন্য।  প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে।  আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে অতীতে মামলা করা হয়েছে, আগামীতেও প্রয়োজনে মামলা করা হবে।  সিইসি বলেন, আগামী নির্বাচনে আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করব নির্বাচনী সহিংসতা রোধ করার জন্য।  তবে একটাও সহিংসতা হবে না, মারামারি হবে না এমন নিশ্চয়তা আমরা দিতে পারি না।  আমরা চেষ্টা করব এগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে।  তিনি বলেন, আচরণবিধি প্রতিপালনে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার পাশাপাশি নজরদারি বাড়ানো এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। 

সিইসি বলেন, সামগ্রিক অর্থে নির্বাচন সফল হয়েছে।  অল্প কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে।  দুর্ঘটনা ঘটেছে।  হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।  এগুলো কোনোভাবেই কাম্য নয়।  তবুও নির্বাচনের মানদণ্ড যদি ভোটদান হয়, তাহলে আমি বলব নির্বাচন সফল।  কারণ এ পর্যন্ত দুই ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে গড়ে ৭৪ শতাংশ ভোট পড়েছে।  আর সভার শুরুতে সিইসি কে এম নুরুল হুদা বলেন, এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দুই ধাপে ২০টিরও বেশি দল অংশ নিয়েছে।  আমরা দাবি করি, নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক ও অংশগ্রহণমূলক হয়েছে।  পরবর্তী নির্বাচনগুলোকে সামনে রেখে আজকের সভায় পর্যালোচনা হয়েছে।  ভবিষ্যতে আরো সঠিক ও শক্তভাবে কিভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তা নিয়েও আলোচনা করা হবে।

প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশে সিইসি বলেন, মাঠপর্যায়ে যারা নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করেছেন, তারা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখে নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য।  যেখানে নির্বাচনের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল না, নিয়ন্ত্রণবহির্ভূত ছিল, সেসব জায়গার নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে।  তিনি বলেন, আমরা দেখেছি, কোথাও কোথাও মারামারি হয়েছে, খুন-জখম হয়েছে।  তার পরও স্থানীয় প্রশাসন পরিবেশ-পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখে নির্বাচন চালু রেখেছে।  সেই নির্বাচনে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট নেয়া হয়েছে।