মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২১,  ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮,  Tuesday, November 30, 2021


দ্যা বাংলা টাইম

আপডেট : 1 week ago

Sun, Nov 21, 2021 10:36 AM

 

শতবর্ষ উদযাপনে যেসব পরিকল্পনা নিয়েছে ঢাবি প্রশাসন

Card image cap

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শতবর্ষ উদযাপনের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নানাবিধ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।  ইতোমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে শতবর্ষের অনুষ্ঠানসূচি ও অতিথিদের তালিকা। বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে চলছে আয়োজকের দায়িত্বে থাকা লোকজনের ব্যস্ততা।

শতবর্ষ উদযাপনে কর্তৃপক্ষ স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।  গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: আখতারুজ্জামান ‘মিট দ্যা প্রেস’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এসব বিষয়ে অবহিত করেন। 

তিনি জানান, আগামী ডিসেম্বরের ১-৪ তারিখ পর্যন্ত শতবর্ষের প্রথম ধাপের অনুষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।  প্রতিদিন দুই পর্বে অনুষ্ঠান সূচি রাখা হয়েছে।  বিকেল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত অতিথিদের বক্তব্য, স্মৃতিচারণ এবং ৫টা থেকে পরবর্তী সময় দেশবরেণ্য শিল্পীদের পরিবেশনায় জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হবে।  এরপর ১২ ডিসেম্বর কনসার্টের মাধ্যমে শতবর্ষ অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘোষণা করা হবে।  অনুষ্ঠানের প্রথম দিন এবং সমাপ্তির দিন মূল ভেন্যু (কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ) ছাড়াও হাজী মুহম্মদ মহসীন হল মাঠ, অপরাজেয় বাংলা ও টিএসসির সামনে সবার অনুষ্ঠান উপভোগের স্বার্থে বড় স্যাটেলাইট পর্দা স্থাপন করা হবে।

অনুষ্ঠানের প্রথম দিন অর্থাৎ পয়লা ডিসেম্বর প্রথম পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ও রাষ্ট্রপতি মো: আব্দুল হামিদ।  তিনি শতবর্ষের মূল সঙ্গীত (থিম সং) বাজানোর মাধ্যমে পরবর্তী সব বর্ণাঢ্য আয়োজনের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করবেন।  সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।  পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং শুভেচ্ছা বার্তা প্রেরণ করবেন।  পরবর্তী দিনগুলোতে পর্যায়ক্রমে দেশের খ্যাতিমান শিক্ষাবিদ, সরকারের শিক্ষামন্ত্রী, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ও কলম্বো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো ও শতবর্ষের স্মারক সংবলিত মগ, কলম, ব্যাগ ও উপহার প্রদানের উপযোগী সামগ্রী শিক্ষার্থীদের বিক্রি করা হবে।

দীর্ঘমেয়াদি হিসেবে গৃহীত পরিকল্পনা সম্বন্ধে উপাচার্য জানান, শতবর্ষ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয়ভাবে তিনটি বই প্রকাশ করবে।  বইগুলো হলো অধ্যাপক ড. শরিফুল ইসলাম চৌধুরী সম্পাদিত ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রমবিকাশ : ১৯২১-২০২১’, যেটির প্রধান উপদেষ্টা সম্পাদক ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, ‘দ্যা ইউনিভার্সিটি অব ঢাকা : দ্যা মেকিং অ্যান্ড শেকিং অব বাংলাদেশ’, যেটির সম্পাদনা করেছেন আরেক ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী এবং থাকবে একটি তথ্যকণিকাসমৃদ্ধ বইয়ের প্রকাশনা, যেটির উপদেষ্টা সম্পাদক অধ্যাপক সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং সম্পাদক অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ ঘোষ।  এ ছাড়াও ৫২টি সমাবর্তনে সমাবর্তন বক্তা ও তৎকালীন ভিসির বক্তব্যের সঙ্কলন নিয়ে একটি প্রকাশনা এবং প্রায় ৫০টি বিভাগের নিজস্ব প্রকাশনা বের হবে।  বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্লভ আলোকচিত্রগুলো সংগ্রহ করে একটি ফটো অ্যালবাম প্রকাশ করা হবে।

আরো থাকবে শতবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জন ও প্রত্যাশা শিরোনামে শিক্ষার্থীদের লেখা বাছাইকৃত প্রবন্ধ ও কবিতা নিয়ে প্রদর্শনী।  প্রকাশনার বাইরে আরো বিভিন্ন বিভাগ, ইনস্টিটিউট ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৫৫টি মৌলিক প্রায়োগিক গবেষণা প্রকল্প পরিচালনা করা হবে।  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্বোধনে গবেষণাধর্মী আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারের মাধ্যমে গত ২১ জানুয়ারি গবেষণার যে নতুন দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে তার যাত্রা অব্যাহত থাকবে।  প্রকাশিত ছয়টি থিমেটিক ওয়েবিনারকে আবর্তন করে প্রকাশিত হবে ছয়টি গবেষণামূলক ভলিউম।

এ ছাড়াও শতবর্ষকে সামনে রেখে বিশ্ববিদ্যালয়কে আধুনিক, গবেষণামুখী, শিক্ষার্থীবান্ধব ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নিত করার লক্ষ্যে নেয়া হয়েছে বিশ্বমানের মাস্টারপ্ল্যান।  শুধু ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয় বরং শিক্ষা, গবেষণা, উন্নয়ন এবং সেগুলোর আধুনিকায়নের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে উন্নিত হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ব্যতিক্রমধর্মীভাবে এটি প্রণয়ন করা হয়েছে।

বিশ্বের অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে মিল রেখে শতবর্ষ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করবে একটি ‘শতবর্ষ স্মৃতিস্তম্ভ’; যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘অসীমতার স্তম্ভে বিশালতা, অন্তর্ভুক্ততা এবং উদারতা’র জানান দেবে।  স্তম্ভটি মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নকালে মলচত্বর এলাকা আধুনিকায়নের সময় স্থাপন করা হবে এবং এর সদৃশ দু’টি স্মারক শতবর্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর আব্দুল হামিদ এবং আগামী বছরের এপ্রিলে আমেরিকায় অনুষ্ঠিতব্য শতবর্ষী অনুষ্ঠানে সেখানকার প্রধান অতিথি প্রিন্সেসকে উপহার হিসেবে প্রদান করা হবে।

শতবর্ষ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আনা হয়েছে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য বীমার আওতায়, যা অব্যহত থাকবে।  বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ শিক্ষক ও গবেষকদের জন্য ১৯৯৭ সালে চালু হয়ে কিছুদিন পর বন্ধ হয়ে যাওয়া ‘বঙ্গবন্ধু ওভারসিজ স্কলারশিপ’ পুনঃপ্রবর্তন করা হয়েছে, যার আওতায় প্রতি বছর ৩৫ জন শিক্ষক বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা ও পড়ার সুযোগ পাচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধ কল্যাণ ট্রাস্টের আর্থিক সহায়তায় ‘বঙ্গবন্ধু পিএইচডি ছাত্রবৃত্তি’ এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রিসার্চ ইনস্টিটিউটের আওতায় শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব স্বর্ণপদক’ প্রবর্তন করা হবে।

শতবর্ষ উপলক্ষে নেয়া উদ্যোগ হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে অটোমেশনের আওতায় নিয়ে আসা এবং কাগজমুক্ত, সময় সংক্ষেপ ও কাজে স্বচ্ছতা আনয়ন কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত করা।  ই-ফাইলিংয়ের মাধ্যমে কাগজপত্রের ঝামেলা কমিয়ে আনার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যেই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চলমান রয়েছে।