বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর, ২০২১,  ৬ কার্তিক ১৪২৮,  Thursday, October 21, 2021


দ্যা বাংলা টাইম

আপডেট : 1 week ago

Tue, Oct 12, 2021 4:13 PM

 

স্ত্রী-ছেলেসহ ডিবি কার্যালয়ে মুসা বিন শমসের

Card image cap

স্ত্রী ও ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ কার্যালয়ে হাজির হয়েছেন আলোচিত ধনকুবের মুসা বিন শমসের।  জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার আবদুল কাদেরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের তিনটি বিষয়ে স্পষ্ট হতে ধনকুবের মুসা বিন শমসেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে ডিবি।

মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটের দিকে মেরুন কালার একটি গাড়িতে করে ডিবি কার্যালয়ে প্রবেশ করেন তিনি।  গোয়েন্দা গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মশিউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ডিবি সূত্র জানায়, ভুয়া অতিরিক্ত সচিব পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার আব্দুল কাদেরের সঙ্গে মুখোমুখি করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে মুসা বিন শমসেরকে।  মুসা বিন শমসেরের আইন উপদেষ্টা ছিলেন প্রতারক আব্দুল কাদের।

এর আগে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত সচিব পরিচয়ে গ্রেফতার আব্দুল কাদেরের প্রতিষ্ঠানে শমসেরের একাধিক ছবি টাঙানো রয়েছে।  তিনি নিজেকে শমসেরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অ্যাডভাইজার হিসেবে পরিচয় দিতেন।  প্রতারক আব্দুল কাদেরের কাছ থেকে মুসা বিন শমসের ও তার স্ত্রীর সঙ্গে করা কিছু চুক্তিপত্র উদ্ধার করা হয়।  এসব বিষয় জানতেই মূলত শমসেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

ডিসি মশিউর রহমান বলেন, আব্দুল কাদের চৌধুরীর আসল নাম, আব্দুল কাদের মাঝি।  তার শিক্ষাগত যোগ্যতা দশম শ্রেণি।  কিন্তু তিনি প্রতারণামূলকভাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আইডি কার্ড, ভিজিটিং কার্ড ছাপিয়ে, নিজেকে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে পরিচয় দিতেন।  নিজের এক কোটি ২০ লাখ টাকার প্রাডো গাড়িতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগিয়ে ঢুকতেন সচিবালয়ে।

ডিবি জানায়, দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে এভাবে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন আব্দুল কাদের।  নানা অভিযোগের ভিত্তিতে ৭ অক্টোবর মিরপুর ৬ নম্বরে বাসা থেকে বাইরে যাওয়ার সময় গ্রেফতার হন তিনি।  একই সঙ্গে আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।

তারা হলেন- সততা প্রোপার্টিজের চেয়ারপারসন ও আব্দুল কাদেরের দ্বিতীয় স্ত্রী শারমিন চৌধুরী ছোঁয়া, অফিস ম্যানেজার শহিদুল আলম ও অফিস সহায়ক আনিসুর রহমান।

শনিবার (৯ অক্টোবর) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিবি প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, আব্দুল কাদেরের আদি বাড়ি নোয়াখালীর সুবর্ণচরের ভূমিহীন এক কৃষক পরিবারে।  তার বাবা জীবিকার সন্ধানে সন্দ্বীপে পাড়ি জমিয়েছিলেন।  মাছ ধরে ও মাঝির কাজ করে জীবিকা উপার্জন করতেন।  এমন ভূমিহীন ভাসমান আব্দুল কাদেরের ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে রয়েছে কোটি কোটি টাকার সম্পদ।  এর মধ্যে গুলশান-১ নম্বরের জব্বার টাওয়ারের প্রায় ৬ হাজার স্কয়ার ফুট আয়তনের অফিস রয়েছে।  কারওয়ান বাজারেও রয়েছে আরও একটি অফিস।  মিরপুর-৬ নম্বরে বসবাস করলেও একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে তার।

ডিবি প্রধান আরও জানান, আব্দুল কাদের নয়তলা বাড়ি কিনেছেন গাজীপুরের বোর্ডবাজারে।  গাজীপুরের পুবাইলে রয়েছে ৮ বিঘার বাগানবাড়ি।  ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক ও সিটি ব্যাংকসহ আরও কয়েকটি ব্যাংকে রয়েছে তার একাধিক অ্যাকাউন্ট।  যেখানে রয়েছে লাখ লাখ টাকা।  অঢেল সম্পদের মালিক এ কাদেরের নেই কোনো বৈধ উপার্জন।  প্রতারণা ও মিথ্যা তার একমাত্র পুঁজি বলে মন্তব্য করেন ডিবিপ্রধান।

আব্দুল কাদের, তার স্ত্রী ও তার সহকর্মীদের বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় অস্ত্র মামলা, তেজগাঁও থানায় প্রতারণার মামলা রয়েছে।  এর আগে তার বিরুদ্ধে পাসপোর্ট জালিয়াতি, বিভিন্ন প্রতারণা, ব্যাংকে নিয়োগ বিষয়ে কমপক্ষে অর্ধ ডজন মামলাও রয়েছে বলে জানায় ডিবি।